• ||
  • Friday, September 11th, 2026
  • ||

নামাজের যত উপকারিতা

নামাজের যত উপকারিতা

 

  • নামাজই একমাত্র ইবাদত, যে ইবাদতের মাধ্যমে মুমিনরা আল্লাহকে সিজদা করেন, আল্লাহর খুব কাছাকাছি আসেন। এজন্য আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নিজেই পবিত্র কোরআনের সুরা আলাকের ১৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘তোমরা সিজদা করার মধ্য দিয়ে আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে যাও।’ 
  •  
  • নামাজ মানুষকে পাপাচার থেকে দূরে রাখে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করলে আল্লাহ খুশি হন এবং তার আমলনামায় সওয়াব দান করেন। যারা নিয়মিত ইসলামী তরিকা অনুযায়ী নামাজ আদায় করে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের জান্নাত দান করবেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম এই নামাজের হিসাব নেবেন। 
  • হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহ আনহু (তাবরানি ও তারগিব) হাদিসে বর্ণনা করেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার কাছে থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামাজের হিসাব ভালো হয় তা হলে তার সব হিসাবই ভালো হবে। আর যদি নামাজের হিসাব খারাপ হয় তা হলে তার সব আমলই খারাপ হবে।’
  •  
  • নামাজের রয়েছে বহুগুণ। নামাজ একদিকে যেমন মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে, তেমনি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকেও ধাবিত করে। আমরা জানি পবিত্রতা হলো ঈমানের অঙ্গ। নামাজ যে পবিত্রতা নিশ্চিত করে থাকে। নামাজ আদায়ের পূর্বশর্ত হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া। নামাজের সময় হলে মুমিনরা অজু করতে যায়। নামাজের আগে অজু করা সুন্নত। অজু করার মধ্য দিয়ে একজন মুসলিম নিজেকে পবিত্র করে নেয়। 
  •  
  • হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, কোনো মুসলিম যখন নামাজের উদ্দেশ্যে অজু করতে গিয়ে মুখমণ্ডল ধৌত করে তখন পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে তার চোখের গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন দুহাত ধৌত করে তখন পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে হাতের গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন দুপা ধৌত করে তখন পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে তার পায়ের গুনাহ বের হয়ে যায়। এভাবে অজুর মধ্য দিয়ে মুসলিমদের গুনাহ দূর হয়ে যায়। (মুসলিম ও তিরমিজি)
  •  
  • নামাজ মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ মানুষকে সুদ, ঘুষ, হারাম থেকে দূরে রাখে। নামাজ মানুষকে সত্যবাদী ও নীতিবান করে তোলে। তাই আমাদের সবার উচিত নিয়মিত নামাজ আদায় করা। সে সঙ্গে অন্যদের নামাজ আদায় করতে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে শিশুদের শৈশব থেকেই নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত করে তোলা। 
  •  
  • মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার এই জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই জীবন শেষ নয়। চিরস্থায়ী জীবন তো ওই পরপারে অবস্থান করছে। যে জীবনের শুরু আছে শেষ নেই। অথচ আমরা পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের মৌহে পড়ে চিরস্থায়ী ঠিকানার কথা ভুলেই গিয়েছি। আমাদের সবার উচিত এখন থেকেই নিজেদের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করা। যে ভুলের সমাধান নামাজ। একমাত্র নামাজই পারে আমাদের অন্যায়ের চোরাবালি থেকে মুক্ত রাখতে। নামাজের মাধ্যমেই আমাদের তওবা করতে হবে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, তিনি বান্দার গুনাহ মাফ করতে পছন্দ করেন।
comment
Comments Added Successfully!